আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় নিজের আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের নথি অনুযায়ী, তার নিয়োগের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এ অঞ্চলের বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি ও নীতিগত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার মেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ হয়েছে।
তবে দায়িত্বের সময়ের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। রয়টার্স জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগের বিষয় উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বরং সায়মা ওয়াজেদ তার আইনজীবীদের মাধ্যমে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং কয়েকটি ঘটনার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
চীনে সরকারি সফরসংক্রান্ত ব্যয়ের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেছেন, সেখানে কোনো ইচ্ছাকৃত আর্থিক প্রতারণা হয়নি। তার আইনজীবীদের ডব্লিউএইচওকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্যয় ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ মার্কিন ডলার। সায়মার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি প্রশাসনিক ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সায়মা ওয়াজেদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে অবহিত করা হয়েছিল। ফলে তার দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল কী হয়েছে, তা নিয়ে ডব্লিউএইচও প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগও তদন্তের আলোচনায় এসেছে। পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি কিনেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনি ব্যবস্থার আওতায় ওই সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার তার ছিল। ফলে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিনি অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে তার পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটের কথাও উঠে এসেছে, যা তার সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এনেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে প্রথমবার প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি বেতনবিহীন ছুটিতে ছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, তার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নেতৃত্বের দায়িত্ব। এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জনস্বাস্থ্যনীতি, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ পদে থাকা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। সায়মা ওয়াজেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরও এ ধরনের একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ডব্লিউএইচওর নিজস্ব প্রকাশনায় ২০২৪-২৫ সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্য জরুরি প্রস্তুতি ও বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে তার ভূমিকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তার পদত্যাগের পর এখন ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পরিচালক নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আহ্বান, আবেদন যাচাই-বাছাই এবং ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সময়সূচি বিবেচনায় রয়েছে। এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে সায়মার পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, সংস্থাটির আঞ্চলিক নেতৃত্বে পরিবর্তনেরও সূচনা করছে।
পদত্যাগের ঘোষণার বিষয়ে ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, সংস্থাটি এর আগে সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদের পক্ষ থেকেও পদত্যাগের পর নতুন করে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর তদন্ত, সংস্থার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়গুলো এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
আরোও পড়ুন – রূপগঞ্জে ভূলতা ফ্লাইওভারে আতঙ্ক, রাতের বেলায় হামলা-ছিনতাইয়ের অভিযোগ
প্রতারণার অভিযোগের তদন্তে ডব্লিউএইচও থেকে সায়মা ওয়াজেদের পদত্যাগ
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্কঃ
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগের তদন্ত চলার মধ্যেই বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তিনি পদত্যাগের ঘোষণা দেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচওর নেতৃত্বের ওপর আস্থা হারানোর কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় ধরে বেতন না পাওয়ায় নিজের আর্থিক পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছেন। তবে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তিনি অস্বীকার করেছেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুল ২০২৪ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন। ডব্লিউএইচওর নির্বাহী বোর্ডের নথি অনুযায়ী, তার নিয়োগের মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি এ অঞ্চলের বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য কর্মসূচি ও নীতিগত উদ্যোগে যুক্ত ছিলেন। ডব্লিউএইচওর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, তার মেয়াদে স্বাস্থ্যব্যবস্থার সক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য, অসংক্রামক রোগ, স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচি নিয়ে কাজ হয়েছে।
তবে দায়িত্বের সময়ের শেষ দিকে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। রয়টার্স জানিয়েছে, ডব্লিউএইচও ও বাংলাদেশের দুর্নীতি দমন কমিশনের তদন্তে আর্থিক অনিয়ম, শিক্ষাগত যোগ্যতা সম্পর্কে ভুল তথ্য এবং বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগের বিষয় উঠে এসেছে। এসব অভিযোগের কোনোটিই আদালতের চূড়ান্ত রায়ে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য প্রতিবেদনে নেই। বরং সায়মা ওয়াজেদ তার আইনজীবীদের মাধ্যমে অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন এবং কয়েকটি ঘটনার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন।
চীনে সরকারি সফরসংক্রান্ত ব্যয়ের বিষয়ে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেছেন, সেখানে কোনো ইচ্ছাকৃত আর্থিক প্রতারণা হয়নি। তার আইনজীবীদের ডব্লিউএইচওকে দেওয়া চিঠিতে বলা হয়েছে, নিয়মিত ব্যয় ফেরতের আবেদন প্রক্রিয়ায় একজন সহকারীর প্রশাসনিক ভুলের কারণে বিষয়টি তৈরি হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট অর্থের পরিমাণ ছিল ৯০১ মার্কিন ডলার। সায়মার পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, ঘটনাটিকে প্রতারণা হিসেবে দেখার কোনো ভিত্তি নেই এবং বিষয়টি প্রশাসনিক ভুলের সঙ্গে সম্পর্কিত।
শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রেও সায়মা ওয়াজেদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে অটিজম নিয়ে কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি একটি সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পেয়েছিলেন এবং এ বিষয়ে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রোস আধানম গেব্রেয়েসুসকে অবহিত করা হয়েছিল। ফলে তার দাবি, শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তির যে অভিযোগ আনা হয়েছে, সেটি সঠিক নয়। এ বিষয়ে তদন্ত বা সংস্থার অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার চূড়ান্ত ফল কী হয়েছে, তা নিয়ে ডব্লিউএইচও প্রকাশ্যে বিস্তারিত তথ্য দেয়নি।
বাংলাদেশে একটি জমি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগও তদন্তের আলোচনায় এসেছে। পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ দাবি করেছেন, ডব্লিউএইচওতে যোগ দেওয়ার আগেই তিনি ওই জমি কিনেছিলেন। তার বক্তব্য অনুযায়ী, পরিবারের সদস্যদের জন্য প্রযোজ্য একটি আইনি ব্যবস্থার আওতায় ওই সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার তার ছিল। ফলে জমি-সংক্রান্ত অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিনি অনিয়মের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এদিকে তার পদত্যাগপত্রে ডব্লিউএইচও নেতৃত্বের প্রতি আস্থার সংকটের কথাও উঠে এসেছে, যা তার সঙ্গে সংস্থাটির সম্পর্কের টানাপোড়েনের বিষয়টি সামনে এনেছে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুলাইয়ে সায়মা ওয়াজেদকে প্রথমবার প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানো হয় এবং পরবর্তী সময়ে তিনি বেতনবিহীন ছুটিতে ছিলেন। পদত্যাগপত্রে তিনি দাবি করেছেন, প্রায় এক বছর ধরে কোনো পারিশ্রমিক না পাওয়ায় তার আর্থিক পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে। এই অবস্থায় দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। একই চিঠিতে সায়মা ওয়াজেদ বলেন, তার অঞ্চলের দেশগুলোর সেবা করার জন্য নির্বাচিত হয়ে তিনি দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করেছেন।
ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদটি গুরুত্বপূর্ণ একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য নেতৃত্বের দায়িত্ব। এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে জনস্বাস্থ্যনীতি, রোগ প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য জরুরি পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন আঞ্চলিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে এ পদে থাকা ব্যক্তিকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। সায়মা ওয়াজেদ দায়িত্ব নেওয়ার পরও এ ধরনের একাধিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। ডব্লিউএইচওর নিজস্ব প্রকাশনায় ২০২৪-২৫ সময়ে স্বাস্থ্যব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ, স্বাস্থ্য জরুরি প্রস্তুতি ও বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য উদ্যোগে তার ভূমিকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
তার পদত্যাগের পর এখন ডব্লিউএইচওর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলে নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচনের প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, নতুন পরিচালক নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন আহ্বান, আবেদন যাচাই-বাছাই এবং ভোটের প্রস্তুতি নিয়ে একটি সময়সূচি বিবেচনায় রয়েছে। এ অঞ্চলের সদস্য দেশগুলোর ভোটের মাধ্যমে আঞ্চলিক পরিচালক নির্বাচিত হন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের সদস্য রাষ্ট্রগুলো এ প্রক্রিয়ার অংশ। ফলে সায়মার পদত্যাগ শুধু একটি ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়, সংস্থাটির আঞ্চলিক নেতৃত্বে পরিবর্তনেরও সূচনা করছে।
পদত্যাগের ঘোষণার বিষয়ে ডব্লিউএইচও তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো মন্তব্য করেনি। রয়টার্স জানিয়েছে, সংস্থাটি এর আগে সায়মা ওয়াজেদ ছুটিতে থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও গোপনীয়তার কারণ দেখিয়ে তার বিরুদ্ধে চলমান বিষয় নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে সায়মা ওয়াজেদের পক্ষ থেকেও পদত্যাগের পর নতুন করে বিস্তারিত মন্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর তদন্ত, সংস্থার অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত এবং ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক পদক্ষেপের বিষয়গুলো এখনো পর্যবেক্ষণে রয়েছে।
আরোও পড়ুন – রূপগঞ্জে ভূলতা ফ্লাইওভারে আতঙ্ক, রাতের বেলায় হামলা-ছিনতাইয়ের অভিযোগ