বানিয়াচংয়ে শীতের আগমনে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, সতর্কতায় স্বাস্থ্য বিভাগ

শাহরিয়ার খান নাফিজ, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় শীতের প্রভাব হঠাৎ করেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সকাল ও বিকেলে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে তীব্রভাবে। সূর্যোদয় দেরিতে হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় শীতের ছাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। উপজেলার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত সপ্তাহে যে সামান্য শীত অনুভূত হচ্ছিল, এখন তার তীব্রতা আরও বেশি বেড়েছে।

শীতের এই পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভোর বা রাতে বাইরে বের হলে অনেকেই শরীরে হালকা কাঁপুনি অনুভব করছেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিবারগুলো গরম কাপড়, গরম পানি ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অতিরিক্ত যত্নে রাখছেন যাতে ঠাণ্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে না পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমি পরিবর্তনের সময় সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বর, ফ্লু ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যায়। বয়স্ক, শিশু এবং যাদের পূর্বে শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, আবহাওয়া ঠাণ্ডা হওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ে, তাই নিয়মিত হাত ধোয়া, গরম কাপড় ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কেউ অসুস্থ হলে দেরি না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আরোও পড়ুন – বানিয়াচংয়ে অতিথি পাখি শিকার বন্ধে উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের প্রথম ধাপেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলবে।

এদিকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানিয়েছে, শীতকালীন রোগীদের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের প্রতি শীতকালীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শীত বাড়ার সাথে সাথে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে, যা মোকাবিলায় সময়মতো সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শীতজনিত সমস্যার কারণে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে না পড়ে।

বানিয়াচংয়ে শীতের আগমনে বাড়ছে শীতজনিত রোগ, সতর্কতায় স্বাস্থ্য বিভাগ

নভেম্বর ১৯, ২০২৫

শাহরিয়ার খান নাফিজ, বানিয়াচং (হবিগঞ্জ)

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় শীতের প্রভাব হঠাৎ করেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। কয়েকদিন ধরে রাতের তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সকাল ও বিকেলে ঠাণ্ডা অনুভূত হচ্ছে তীব্রভাবে। সূর্যোদয় দেরিতে হওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় শীতের ছাপ ধীরে ধীরে বাড়ছে। উপজেলার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, গত সপ্তাহে যে সামান্য শীত অনুভূত হচ্ছিল, এখন তার তীব্রতা আরও বেশি বেড়েছে।

শীতের এই পরিবর্তন স্থানীয় মানুষের স্বাস্থ্যে সরাসরি প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে। ভোর বা রাতে বাইরে বের হলে অনেকেই শরীরে হালকা কাঁপুনি অনুভব করছেন। বিশেষ করে শিশু ও প্রবীণদের মধ্যে সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা ও জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে পরিবারগুলো গরম কাপড়, গরম পানি ও পুষ্টিকর খাবারের দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের অতিরিক্ত যত্নে রাখছেন যাতে ঠাণ্ডা লেগে অসুস্থ হয়ে না পড়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, মৌসুমি পরিবর্তনের সময় সাধারণ ঠাণ্ডা-জ্বর, ফ্লু ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যা বেড়ে যায়। বয়স্ক, শিশু এবং যাদের পূর্বে শ্বাসকষ্ট বা অ্যাজমা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি আরও বেশি দেখা দেয়। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা বলেছেন, আবহাওয়া ঠাণ্ডা হওয়ায় সংক্রমণ ছড়ানোর সম্ভাবনা বাড়ে, তাই নিয়মিত হাত ধোয়া, গরম কাপড় ব্যবহার, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। কেউ অসুস্থ হলে দেরি না করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

আরোও পড়ুন – বানিয়াচংয়ে অতিথি পাখি শিকার বন্ধে উদ্বিগ্ন পরিবেশপ্রেমীরা

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, নভেম্বরের শেষ দিকে তাপমাত্রা আরও কমতে পারে। শীতের প্রথম ধাপেই তাপমাত্রা দ্রুত কমে যাওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, ডিসেম্বরের শুরুতে শীতের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে, যা মানুষের স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলবে।

এদিকে বানিয়াচং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স জানিয়েছে, শীতকালীন রোগীদের জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছে। প্রয়োজনীয় ওষুধ, চিকিৎসক এবং জরুরি সেবা নিশ্চিত করা হয়েছে যাতে রোগীরা দ্রুত চিকিৎসা সুবিধা পায়। স্থানীয় বাসিন্দারা সরকারের প্রতি শীতকালীন স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করা এবং সচেতনতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, শীত বাড়ার সাথে সাথে অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ে, যা মোকাবিলায় সময়মতো সরকারি পদক্ষেপ প্রয়োজন।

স্বাস্থ্যকর্মীরা জনসাধারণকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি শিশু ও প্রবীণদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে শীতজনিত সমস্যার কারণে কেউ গুরুতর অসুস্থ হয়ে না পড়ে।