কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদরদপ্তরে ড্রোন আঘাত

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউর (SBU) কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দিনের বেলায় হওয়া এই হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর ঐতিহাসিক কিয়েভ শহরের কেন্দ্রজুড়ে ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ড্রোনটি এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ঘটনাটিকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি উত্তেজনাকর অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসবিইউর কেন্দ্রীয় ভবনটি কিয়েভের ভলোদিমিরস্কা স্ট্রিটে অবস্থিত এবং এর কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল। হামলার সময় রাজধানীর ওই এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। ড্রোন আঘাতের পর ভবন ও আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং জরুরি বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; আশপাশের কিছু স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।

হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রুশ ড্রোনটি সরাসরি এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেকসান্দর পোকলাদের হামলার জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এমন একটি প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন, যা সম্ভব হলে রাশিয়ার হামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পরে ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কার্যকর সময় বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা নিয়ে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা হামলাটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের প্রস্তুতির মধ্যেই এই হামলা সংঘাতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উচ্চঝুঁকির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা, জ্বালানি অবকাঠামো ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় আঘাত করার জন্য বেশ কিছু গোপন ও দূরপাল্লার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে অধিকৃত ক্রিমিয়াকে যুক্ত করা কের্চ সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত একটি ড্রোন অভিযানের সঙ্গেও এসবিইউর সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ্যে আসে। ওই অভিযানে রাশিয়ার কয়েকটি কৌশলগত বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলার আরেকটি তাৎপর্য হলো, ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনা সাধারণত রুশ হামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল লক্ষ্য হলেও এমন স্থাপনায় সরাসরি আঘাতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। কিয়েভে টানা কয়েক দিন ধরে রুশ ড্রোন হামলা চলার মধ্যে এসবিইউ সদরদপ্তরে দিনের বেলায় আঘাত রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে শহরের অন্যান্য অংশেও রুশ হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রায় সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক অনিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি দুই পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে। এর ফলে প্রতিশোধমূলক হামলার ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিয়েভে এসবিইউ সদরদপ্তরে হামলার পর জেলেনস্কির পাল্টা জবাবের নির্দেশ সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

হামলার স্থানটি ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এসবিইউ সদরদপ্তরের কাছেই রয়েছে সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল, যা কিয়েভের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। হামলার পর ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি যানবাহনের চলাচল বাড়ে। আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এতে কিয়েভের ঘনবসতিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এলাকায় ড্রোন যুদ্ধের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি শহরের সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোও এমন হামলার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে পড়ছে।

এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ধরন, সময় ও লক্ষ্য সম্পর্কে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। কিয়েভের এই হামলা সামরিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে—সেদিকেই এখন নজর পর্যবেক্ষকদের।

আরোও পড়ুন – নেপাল-তিব্বতে নিহত ৮১০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি

কিয়েভে রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা, ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদরদপ্তরে ড্রোন আঘাত

সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের প্রাণকেন্দ্রে দেশটির নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এসবিইউর (SBU) কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরে ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় সময় দিনের বেলায় হওয়া এই হামলায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন বলে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। হামলার পর ঐতিহাসিক কিয়েভ শহরের কেন্দ্রজুড়ে ব্যাপক ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘটনাস্থলে জরুরি সেবা সংস্থার সদস্যদের তৎপরতা দেখা যায়। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, ড্রোনটি এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করে আঘাত হানে। ঘটনাটিকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ একটি উত্তেজনাকর অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসবিইউর কেন্দ্রীয় ভবনটি কিয়েভের ভলোদিমিরস্কা স্ট্রিটে অবস্থিত এবং এর কাছেই রয়েছে ঐতিহাসিক সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল। হামলার সময় রাজধানীর ওই এলাকায় বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল। ড্রোন আঘাতের পর ভবন ও আশপাশের এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনী ঘটনাস্থল ঘিরে ফেলে এবং জরুরি বিভাগের কর্মীরা উদ্ধার ও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করেন। হামলার প্রভাব শুধু নিরাপত্তা স্থাপনায় সীমাবদ্ধ ছিল না; আশপাশের কিছু স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর এসেছে।

হামলার বিষয়ে জেলেনস্কি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, রুশ ড্রোনটি সরাসরি এসবিইউ প্রধানের কার্যালয় লক্ষ্য করেছিল। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, তিনি সংস্থাটির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ওলেকসান্দর পোকলাদের হামলার জবাব দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট এমন একটি প্রতিক্রিয়ার কথা বলেছেন, যা সম্ভব হলে রাশিয়ার হামলার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। পরে ইউক্রেনীয় পক্ষ থেকে জানানো হয়, সম্ভাব্য পাল্টা জবাবের স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে এবং কার্যকর সময় বেছে নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এতে রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতের মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা নিয়ে ইউক্রেনের কর্মকর্তারা তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা হামলাটিকে বড় ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি হিসেবে উল্লেখ করে রাশিয়ার ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। হামলার সময়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ একই সময়ে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে সম্ভাব্য কূটনৈতিক উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা চলছিল। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের মস্কো ও কিয়েভ সফরের প্রস্তুতির মধ্যেই এই হামলা সংঘাতের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার বিরুদ্ধে বিভিন্ন উচ্চঝুঁকির অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। সংস্থাটি রাশিয়ার সামরিক সক্ষমতা, জ্বালানি অবকাঠামো ও যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতায় আঘাত করার জন্য বেশ কিছু গোপন ও দূরপাল্লার অভিযানের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে রাশিয়ার সঙ্গে অধিকৃত ক্রিমিয়াকে যুক্ত করা কের্চ সেতুতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থার ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছিল। ২০২৫ সালে ‘স্পাইডারওয়েব’ নামে পরিচিত একটি ড্রোন অভিযানের সঙ্গেও এসবিইউর সম্পৃক্ততার কথা প্রকাশ্যে আসে। ওই অভিযানে রাশিয়ার কয়েকটি কৌশলগত বোমারু বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল।

সাম্প্রতিক হামলার আরেকটি তাৎপর্য হলো, ইউক্রেনের কেন্দ্রীয় সরকারি ও নিরাপত্তা স্থাপনা সাধারণত রুশ হামলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সংবেদনশীল লক্ষ্য হলেও এমন স্থাপনায় সরাসরি আঘাতের ঘটনা তুলনামূলকভাবে বিরল ছিল। কিয়েভে টানা কয়েক দিন ধরে রুশ ড্রোন হামলা চলার মধ্যে এসবিইউ সদরদপ্তরে দিনের বেলায় আঘাত রাজধানীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। একই সময়ে শহরের অন্যান্য অংশেও রুশ হামলা ও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া যাচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ার পাশাপাশি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও নতুন করে চাপ তৈরি হয়েছে।

রাশিয়ার ভয়াবহ হামলা এমন এক সময়ে হলো, যখন প্রায় সাড়ে চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নতুন এক অনিশ্চিত পর্যায়ে রয়েছে। সামরিক সংঘাতের পাশাপাশি দুই পক্ষই একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ও সামরিক সক্ষমতাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে। ইউক্রেনও রাশিয়ার ভূখণ্ডের ভেতরে সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন অভিযান পরিচালনা করেছে। এর ফলে প্রতিশোধমূলক হামলার ধারাবাহিকতা আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কিয়েভে এসবিইউ সদরদপ্তরে হামলার পর জেলেনস্কির পাল্টা জবাবের নির্দেশ সেই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করেছে।

হামলার স্থানটি ঐতিহাসিক গুরুত্বের দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ। এসবিইউ সদরদপ্তরের কাছেই রয়েছে সেন্ট সোফিয়া ক্যাথেড্রাল, যা কিয়েভের অন্যতম পরিচিত ঐতিহাসিক স্থাপনা এবং ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের অংশ। হামলার পর ওই এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং জরুরি যানবাহনের চলাচল বাড়ে। আশপাশের কয়েকটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এতে কিয়েভের ঘনবসতিপূর্ণ ও ঐতিহাসিক এলাকায় ড্রোন যুদ্ধের ঝুঁকি আবারও সামনে এসেছে। সামরিক লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি শহরের সাধারণ মানুষের জীবন, ব্যবসা ও ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাগুলোও এমন হামলার প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ প্রভাবে পড়ছে।

এদিকে হামলার পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। জেলেনস্কির বক্তব্য অনুযায়ী, পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে। তবে সম্ভাব্য প্রতিশোধমূলক হামলার ধরন, সময় ও লক্ষ্য সম্পর্কে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি। অন্যদিকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই হামলা নিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে পরিস্থিতি কোন দিকে এগোয়, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নজর রয়েছে। কিয়েভের এই হামলা সামরিক সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলবে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে—সেদিকেই এখন নজর পর্যবেক্ষকদের।

আরোও পড়ুন – নেপাল-তিব্বতে নিহত ৮১০, নিখোঁজ ৩ হাজারের বেশি